বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা ও ডলারের বিনিময় হারে পতনের কারণে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গত সপ্তাহে রেকর্ড উচ্চতার পর কিছুটা পতন দেখা দিলেও গতকাল মূল্যবান ধাতুটির দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতির দিকনির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করছেন। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৬৬ ডলার ৫৪ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৭৬ ডলার ১০ সেন্টে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। গত ২০ অক্টোবর এটি পৌঁছেছিল রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৮১ ডলার ২১ সেন্টে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক জুলিয়াস বেয়ারের বিশ্লেষক কার্সটেন মেনকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারের অতিমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আর্থিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে রেকর্ড উচ্চতা থেকে কিছুটা কমে আসা স্বর্ণের দাম এখন আবার বাড়ছে।’
ইউরোপের শেয়ারবাজারে সূচকগুলো দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। অন্যদিকে মুদ্রাবাজারে ডলার সূচক কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। এতে অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারে কেনাবেচা হওয়া স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেসরকারি অর্থনৈতিক সূচকের দিকে নজর রাখছেন। এর মধ্যে রয়েছে এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট, যা ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদহার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। গত সপ্তাহে ফেড সুদহার কমিয়েছে। এরপর সংস্থাটির চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, চলতি বছর ফেড আর সুদহার নাও কমাতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী ডিসেম্বরে সুদহার কমার সম্ভাবনা বর্তমানে ৭২ শতাংশ, যা পাওয়েলের মন্তব্যের আগে ৯০ শতাংশের বেশি ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত বাড়ে।
জুলিয়াস বিয়ারের বিশ্লেষক কার্সটেন মেনকে বলেন, ‘নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখনো বেশ দৃঢ় অবস্থানে আছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণে আগ্রহী হচ্ছেন। একই কারণে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা আনতে নিয়মিতভাবে স্বর্ণ কিনছে।’
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে গতকাল রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪৭ ডলার ৬৯ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১ হাজার ৫৩৩ ডলার ৯১ সেন্টে। প্যালাডিয়ামের দাম গতকাল দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৯৭ ডলার ৪৬ সেন্টে।